প্রচন্ড ঢেউ এসে পদ্মার চরের মতোন বুকের ভিতর নিঃশ্বাসের ঝড় লাগে
খুলে যায় বান্দা মাটির বান্ধ,মাংসের টুকরোগুলো ছুটে
পড়ে রক্তের আশ্চর্য বিকাশে
তবু কী করে তুমি বলো আমার কষ্ট হয় না!
আমিতো ধ্বংস, কাম ও প্রেম, রস ও রতির মিশ্রণে
এক গরলামৃত।
এমতাবস্হায় তবুও মাটি হয় ইচ্ছাধীন আলেখ মানুষ।
নদীর কূলে যারা অধরাকে ধরে বিনিময়ের অমৃত ধারায়
প্রবহমাণ রেখে বীজরুপী সত্ত্বাকে ঈশ্বর ভেবে
তারাই রসিক হয়ে যায় চারকূলের দুই ভুবনকে চিরস্হায়ী
সাধনার রস ধারায় স্নান প্রবহমানে,
তবু কী করে তুমি বলো আমার কষ্ট হয় না!
সাধনার স্তর রসিক পদাবলী -
প্রবর্ত
সাধক
সিদ্ধ
আমি চতুর নদীর জল সরবরাহের মতোন সন্ধ্যার পেটের
মাঝখানে মহাসুখের সঙ্গে বেদনার তীব্র শৃঙ্গার ভাব।
মারফতের খুঁজে বেরিয়ে দেখেছি অকূল সমুদ্রের আদর
পথিকের মাথার উপর সাধুর আখড়ায়,
নামধাম কখনো আকার ধরে নিরাকারে বিশ্বাসের প্রদীপ
শুধু জলের অরতি,প্রেমের আশ্রমে পিপাসার যোগ-বিয়োগ!
তবু কী করে তুমি বলো আমার কষ্ট হয় না!
কাঙাল কাঙালে তো একটা ভাবের সম্পর্ক থাকে
আমিতো কাঙাল আশ্রয়ের দুয়ার খুলে দাও না,
মনে রেখো,জলের পিপাসা পেলে তার চিৎকারে ভরা
নদীটির বুকও বেলার মতোন ফেটে যায়।
প্রথমেই শতোকোটি সালাম নিবেন,
ভালো আছি বলেই,এখনো বেঁচে আছি বলেই,
অন্ধকার গলগল করে পান করছে জীবন।
যদিও প্রাণের কাঙাল ভোরের শরীর জানে
আশঁটে গন্ধ নদীর জল সরবরাহের মতোন
ভুলে যায় সূর্যের মৌসুমে তীরের মায়ায়।
মাটি দিয়ে আগুন জ্বালানো যায় না
আগুনই মাটিকে পুড়িয়ে যন্ত্রনা দেয়
ঈশ্বর মুলুক মৌলিক এক দলিলের ভিতর,
সবকিছু নষ্ট হয়ে গেলে
মাংসের সিনায় মায়ার এক স্রোত অন্তহীন
জাগ্রত কলাপাতার আয়ু।
ঘাসের গভীরে লুকানো থাকে তৃষ্ণার অভিমান,
যে গাঁয়ের সীমানা বুঝে
তার দৃষ্টি দিনের মতোন সন্ধ্যার পেটের গভীরে
আলোকিত করা সোনা বন্ধুর গান,
উথলে ওঠে আহ্বান ভেজা এক টুকরি বাতাস,
বাড়তি জ্বালা সাধকের ডাকে সাড়া দিয়ে
প্রেমের ভাষা সমান্তরাল বাউল সময়।
বদলে যাচ্ছে হামেশা নিক্ষেপের দিন
রাইফেলের গুলিগুলো সুন্দরীদের মতোন হলেও
চিনে রেখেছে কোথায় আজকাল আঘাতের স্থান,
দীর্ঘশ্বাসের তসবি মাটির অন্তরে বসে
অভিশাপ দিচ্ছে ফুল যেমন দেয় ভ্রমরকে,
আর কান পেতে শুনি,কলিজার ছায়ার উপর
দাঁড়িয়ে ঈশ্বরের নাম নিচ্ছেন জীবনের উকিল।
ধুর,পিছন থেকে ঠেলা দিস না!
মাংসের বেদনা নিজের শরীর ছাড়া আর কেউ
জানবে না কোনদিন,
আমি জানি শ্রমিকের হাত বুদ্ধিমান থাকে না
পাথরে তাই কপালের ঘাম মুছে,
আকাশের দিকে ছাড়ে এতিম আকিদা মাফিক
দীর্ঘশ্বাস, ভালবাসার দরিয়া হয় কর্মের কারখানা।
সময় আজ চাঁদের মতোন সুন্দর,তবু
অসুখের জমিনে সুখের চাষাবাদ নিষিদ্ধ,
তোমাকেও পেয়ে যাই ওখানে
দুঃখের একখণ্ড কাঁচের টুকরো হয়ে বসে থাকো
বুকের ভেতর সীমান্তের ওপার হয়ে!
চলে যাবার কথাও হয় দুইজনে
অথচ আমি যে পথের আলামত নষ্ট করেছি
তুমি সেই পথের দিশা দেখিয়ে বললে এগিয়ে যাও।
এখানে পাথরের সিনা দেখতে একদম মানুষের কলিজার
মত লাগে,জীবনের উপর দাঁড়িয়ে দেখো,দেখবে
হাত প্রসারিত করলেই হাতগুলো হারিয়ে যায় অন্ধকারে,
সুখের আত্মিয় অনন্তকাল পূর্ণিমার চাঁদ কিংম্বা
কবর আর শ্মশানের শেষ যাত্রার ছুটে চলা রথ!
আমি জেনেছি প্রাণের কোন স্বজন হয় না।
ফুলের চাদর নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ তার সুবাসের বুনিয়াদ
খুঁজে অসীমের দিকে তাকায় আর বলে,আহারে।
জীবনের মলাটে যে দিন ওয়াহিদ লিখা হবে তোমার নাম
তুমি ঘুমিয়ে যেও,চিৎকারে মুখরিত থাকুক যতোই রহিম,রাম।
সে আর নেই,
মানে এই আমার বুকের খাঁচা শূন্য করে
বাতাসের গলা ধরে বিলুপ্ত প্রেম
তার ভালোবাসায় চলে গেছে কিছুক্ষন আগে!
আমি জানি,
মৃত মানুষের কোন স্বপ্ন কিংবা ভালোবাসার প্রতি
আবেগ_অনুভূতি থাকে না।
কারও চলে যাওয়া না হয় মৃত্যুতে
অস্বাভাবিক কষ্টের ক্ষুধার্ত থাবা চোখের জলে
ভেসে বেসামাল হয় দীর্ঘশ্বাসের চঞ্চল বাতাসে,
আমার চলে যাওয়াটি একদম সাধারণ গমনের
আওতায় একটি জখমভরা প্রাণীর চোখ মেলে
প্রতীক্ষারত ভোরের বাতির প্রয়োজন শেষে নিভে
যাওয়া দৃশ্য, আমি অভিযোগহীন,তুমিহীন তোমার
অপেক্ষারত এক বিদেহি আত্মার শূন্য মাটির পিনরা।
আমি জানি,
লাশের পাশে অনেক সময় কেউ থাকে না
সে হউক জীবন ভরা অথবা মৃত।
বড়ই অচেনা নগরে এসে থামলো আমার যাত্রার রথ।
এখানেও একটি পথ ছিলো,একটি ঘরও-ছিলো দুয়ার,
একটি জানালা প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকতো কারও জন্য,
আজ কারও সেই প্রতীক্ষা আমার বুকের ওপর আসমানের ছায়া।
অন্ধকার রাত্রি
হাতটি অসহায়ের মতো পড়ে আছে
বিছানার ওপর
প্রতিকূল সমৃদ্ধি নির্জন বুকের দরোজা খুলে
উড়াল মারতে চায় বুকের পাখি,
ভাসমান আত্মা শিউলি ফুলের মতো
সাজায় অন্তের আঙিনা,
টের পাচ্ছি মসজিদের মিনার,বাতাসের গন্ধ,
ফুলের সুরভি আর
কাচের বোতল ভরা আতরের নিঃশ্বাস।
ওয়াহিদ,সমুদ্রের দিকে তাকাও,
দেখো,গরিব ঢেউ কতো অসহায় আজ,
সন্নিহিত তীরে কষ্টের ঊর্মি ছুইতে পারেনা,
হ্নদয়মথিত কান্না
সরল বাউল বাতাস জড়িয়ে ধরে স্হির
অভিমানে গহন জ্বালায় উজ্জ্বল,
বুকের ভেতর নিভে গেছে আগুন
কুসুমের আয়ুর মতো অভয় বাণী শুনায়
মৃত্যু,বাসনারহিত শয্যার মুখ বড়ই কালো,
জীবনের আশ্রয় মাটি নিজ হাতে গ্রহণ করছে।
বুকের চাদরে লাগিয়েছি যমুনার জল,এই
জলে একদিন তুমি কান্নার দাগ ধুয়েছিলে,
ছিন্নভিন্ন মাটির শরীরে শূন্যতায় ভরা, তবু আপনেরা
শূন্য আতরের বোতলটি এই বুকের ওপর যায় ফেলে!