৫টি কবিতা । রুদ্র সুশান্ত
নাম না জানা পাখি
∆
আমাদের বাড়ির আনাচে-কানাচে ঘুরে একটি রাঙ্গা পাখি,
পাখিটার নাম জিজ্ঞাসিলে বলে- দাঁড়াও; সুরে বলে ডাকি।
আহা কি সুর মিষ্টি মধুর, অবচেতনে সুখ পাই নির্ভেজাল,
এত মধুর সুর, দেহ থেকে প্রাণ কাড়ে আজন্ম কাল ।
তবে দাঁড়ায় শিশির ভেজা সবুজ ঘাসের উপর,
চমৎকার মিষ্টি সুরে শিশির উড়ে গড়ায় দুপুর।
নাম বলে না পাখি।
তবুও আশ্চর্য রকম চমকপ্রদো হয়ে চেয়ে থাকি।
চোখের গোলাপি বিন্দু হতে বিচ্ছুরিত প্রেম আমাকে আরো কাছে ডাকে,
এত মায়া এত প্রেম এত মোহ সব ছেড়ে চলে যাই, তবুও অল্প বাকি থাকে।
অষ্টাদশী কবিতা
∆
প্রেমে পড়লে ছেলেরা বুকের উপর পৃথিবী সমমানের একটা অথর্ব পাথর নিয়ে ঘুরে,
আর প্রেমে পড়লে মেয়েদের মন ছলাৎ ছলাৎ করে।
প্রেমে পড়লে ছেলেরা যেকোনো দুঃসাধ্যে অভিযান চালাতে পারে নির্দ্বিধায়,
আর প্রেমে পড়লে মেয়েরা লুকোচুরি খেলে অন্তরায়।
প্রেমে পড়লে ছেলেদের মন হয় আকাশ সমান,
মেয়েরা পাখপাখালি-গাছগাছালি, কবিতায় মুখ ডুবান।
প্রেমে পড়লে ছেলেরা বাউন্ডুলে ভাব ছেড়ে গৃহস্থ হবার আশায় নেশা পালে দিনরাত,
মেয়েরা অগত্যা জঞ্জালে প্রিয় সময়গুলোকে করে অনর্থ বরবাদ।
প্রেম হলো নেশা, ছেলেদের চোখে-মুখে-বুকে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির লাভা,
মেয়েরা অস্বীকার করে দারুণ! ওই ছেলেটা কে? আমি চিনি না বাবা।
প্রেমে পড়লে ছেলেরা জিভ্ কাটে, অসহ্য কোলাহল আর ত্রিমুখী যন্ত্রণায় ছটফট করে গলাকাটা মুরগির মতোন,
কী আশ্চার্য মাইরি! মেয়েরা সবকিছু লুকাতে পারে- প্রেমে পড়ে মিথ্যা বলা ওদের কাছে ঐশ্বরিক বচন।
না না বলবো না আর, সদা সত্য বলা পাপ। ঢের বলেছি হয়তো-
যদি প্রেমিকা থাকে মোর- চামড়া তুলে নিবে, ইয়ে ধরে ঝুলিয়ে রাখবে নয়তো।
বসন্ত এসে গেছে
∆
ঈশ্বরের আদেশে ঘুমিয়ে পড়েছে কাঠবিড়ালী,
চিত্রা হরিণটা বাচ্চা দিয়েছে গঙ্গার ধারে,
বসন্ত নেচেনেচে পাগল করে দিলো নীরবে বসে থাকা চিতাবাঘটাকে।
আমকাননে মুহুর্মুহু গন্ধে মুকুল এসেছে,
বালকের দল ভীষণ দুষ্টু হয়েছে,
দোয়েল নেচে আর কোকিল কণ্ঠে সুর দিয়ে জানিয়ে দিলো বসন্ত এসে গেছে।
ভালোবাসার মহাক্ষেত্র
∆
তোর
চশমা পরা সজল চক্ষের বাইরে রৌদ্রাগ্নিতে পুড়ে যাচ্ছিলো শহর, আমি নিতান্ত
বোহেমিয়ান সুরে বাঁশী বাজাচ্ছিলাম শহরের কোণে বসে। তোর ভালোবাসার
রক্তকোষগুলো রঙ মেখে দিয়েছে আমার সবকটি শিরা-উপশিরায়,
এমনি অনুভূতির নিউরোনগুলোতেও।
শহিদ
মিনারের লাল বৃত্তটির উপর বসে একরাশ স্বর্গীয় সুখ নিয়ে কীর্তন গেয়ে গেলো
একটি ফিনিক্স পাখি- কারণ পাখিটি বুঝে গিয়েছিল দেবীর আগমন ধ্বনি।
আকাশ বাতাস সমগ্র ত্রিভূবন সাক্ষী স্বরুপ জ্বালিয়ে দিলো ভালোবাসার আলো-খচিত হীরক দণ্ড অবশেষ।
যতোবার
তোর নয়নে ভালোবাসার নীল প্রজাপতি উড়েছে ততোবার ভালোবাসা পেয়েছে ঐশ্বরিক
ছোঁয়া, তোর ভালোবাসার বাহুডোরে গোলাপ বৃষ্টি করে দেবতারা।
শতো
জনমে শতোবার পৃথিবী চোখ তুলে থাকালে একটি মুখ দেখেছে বারবার, তোর বিশুদ্ধ
মুখশ্রী। যেখানে লেখা আছে ভালোবাসার গল্পগুলো, পৃথিবীর বিবরণ, নীল পদ্মের
ইতিহাস, অক্সিজেন তত্ত্ব ও একজন প্রেমিকের যাপিত সংসার।
তোর রহস্যময় নয়নদ্বয়ে ঈশ্বর লিখে রেখেছে মানব জাতির ইতিহাস,
দেবীর নয়নে নিমজ্জিত হয়ে প্রেমিক পুরুষ হুংকারে ছেড়েছে সর্বনাশ।
তোর চশমার কিনারায় লেগে আছে প্রেম, জনম জনমে যুক্ত হবার আহ্বান।
তোর
ভালোবাসা আনবিক শক্তিসম্পন্ন অক্সিজেন বোমা, বেঁচে থাকার বিশুদ্ধ আর্তনাদ,
জোছনার পরিপূর্ণ চাঁদ, কবিতার আত্মা আমার লুকোচুরির সুর।
মাঠের পর মাঠ সাম্রাজ্যবাদীরা দখল করে নিলেও আমি শুধু তোরে দখলের আশায় নির্বাক থাকবো, তোর কানে গুজে দিবো আমার নিদারুণ স্পর্শ।
আমার
ছন্দের বৃক্ষরাজি তোর ধ্যানে মগ্ন হয়ে স্তুতি করে, দেবী তোর আগমনে এখানে
বসন্ত হয়, সবুজ হয় সবকিছু আবার, ফুল আর ফলে ভরে যায় আমার হৃদয়,
পত্রবিল্লব, পুষ্প আর দূর্বাদি দিয়ে চলে তোর আরাধনা।
ভালোবাসার আলিঙ্গনে সহস্র বছরের কবিতার সব পঙক্তি তোর নামে লিখে দিয়ে আমি হবো পৃথিবীর মরুকবি।
তুমি
∆
সহস্র ক্লান্তি নিমিষেই উড়ে যায় মধ্যাহ্নের শিশিরের মতোন-
বেহালার সুরে ভেসে আসে স্নিগ্ধ গোধূলি,
রং মেখে যায় আকাশ, বিস্তর বেদনারা উড়ে উড়ে হাওয়া হয়ে যায় অদৃশ্য প্রলোভনে,
আমার কেবল বিদীর্ণ মন- সুখে-সন্তাপে
খুঁজে সারাক্ষণ,
বেলার পর বেলা, রাশি রাশি সময়; তোমাকে সংগোপনে।