তিরিশ বছর পর বহুমাত্রিক কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও প্রবাসী বাঙালি লেখক মহিবুল আলম এর প্রথম গল্পগ্রন্থটি আবার প্রকাশ পাচ্ছে৷ প্রকাশ করছেন স্বনামধন্য বাঙালি প্রকাশনীর কর্ণধার কবি ও প্রাবন্ধিক আরিফ নজরুল। প্রচ্ছদ করেছেন চিত্রশিল্পী নাজিব তারেক ।
তিরিশ বছর আগে, ১৯৯৬ সালে বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্প থেকে এই গল্পগ্রন্থটি প্রকাশ পায়। প্রচ্ছদ করেছিলেন চিত্রশিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী।
মহিবুল আলম একজন বহুমাত্রিক কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও প্রবাসী বাঙালি লেখক। তিনি ১৯৭০ সালের ১ জুলাই (সার্টিফিকেট অনুযায়ী) কুমিল্লার মুরাদনগরের কাজীবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৯৬৯ সালের ১৯ জানুয়ারি। তাঁর পিতা ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক কাজী এম. নুরুল আলম এবং মাতা বেগম কাজী সকিনা আলম।
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাজীবন কুমিল্লাতেই সম্পন্ন করে তিনি বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকালীন সময় ডিপ্লোমা ইন বিজনেস, কম্পিউটিং ও নার্সিং–এ উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন।
পেশাগত জীবনে তিনি সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি কুইন্সল্যান্ডে এনডিআইএস-এ কো-অর্ডিনেটর ও টিম লিডার হিসেবে কর্মরত।
মহিবুল আলমের লেখালেখির শুরু কলেজ ম্যাগাজিনে গল্প প্রকাশের মধ্য দিয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময় থেকেই তাঁর সাহিত্যচর্চার গতি বাড়ে। বাংলা একাডেমির তরুণ লেখক প্রকল্পের মাধ্যমে ১৯৯৬ সালে তাঁর প্রথম গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এরপর প্রবাসজীবনের নানা ঘাতপ্রতিঘাতে কিছু সময় লেখালেখি থেকে বিরত থাকলেও ২০১২ সালে ‘দীঘল মেঘের দেশে’ উপন্যাস দিয়ে সাহিত্যে পুনরাগমন ঘটান।
তিনি উপন্যাস, ছোটগল্প, কিশোর সাহিত্য, কবিতা ও প্রবন্ধসহ সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় তাঁর বিচরণ ঘটিয়েছেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের সংখ্যা ২০টিরও বেশি। এর মধ্যে রয়েছে ‘তালপাতার পুথি’, ‘মায়াগন্ধা’, ‘ঈশ্বর’, ‘মানুষঘুড়ি’, ‘জোড়া সিঁথি নদীর তীরে’ ইত্যাদি। তাঁর রচনাবলি শুধু বাংলাদেশেই নয়, পশ্চিমবঙ্গেও ব্যাপকভাবে প্রশংসিত ও পুরস্কৃত হয়েছে।
তিনি বাংলা একাডেমি তরুণ লেখক প্রকল্প পুরস্কার (১৯৯৮), প্রবাসী সাহিত্য সম্মাননা (নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া), এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সাহিত্য সংগঠন থেকে একাধিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
লেখালেখির পাশাপাশি তাঁর অন্যতম শখ হলো ভ্রমণ ও বাগান করা। বর্তমানে তিনি গোল্ড কোস্ট, অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন এবং নিজ হাতে গড়া দেশীয় গাছ-গাছালিতে ভরা বাগান তাঁর প্রিয় সময় কাটানোর জায়গা।
