মজিদ মাহমুদ এর কবিতা গুণীজনদের চুম্বক-কথা
মজিদ মাহমুদ এর কবিতা গুণীজনদের চুম্বক-কথা
মজিদ মাহমুদ এর কবিতা নিয়ে- কত গুণীজনদের চুম্বক-কথা ।
মজিদ একবারে অনুচ্চ স্বরে পৃথিবীর প্রতিষ্ঠিত ধর্মচিন্তার দুই মেরুকে মিলিয়েছেন অথচ কোনও সমীকরণ করেন নি।
- দেবেশ রায়
এই কবিতা যিনি লিখেছেন, তিনি নতুন না পুরনো, তাঁর বয়স আশি না তিরিশ, তাঁর বই এখনই প্রথম বেরুল, নাকি আগেও বেরিয়েছে, এই সব প্রশ্ন এ লেখায় জরুরি নয়; যা জরুরি তা হলো এই যে, লেখাটি এখন লেখা হয়েছে, কিম্বা আরও ঠিক করে বলতে গেলে, এখন বেরিয়েছে।
--ড. মনজুরে মওলা
মজিদ মাহমুদের কবিতার মধ্যে ক্ষোভ, বেদনা, দ্রোহ শৈল্পিকভাবে প্রতীকায়িত হয়েছে। রবীন্দ্রনাথের মতো এই কবি বৈচিত্রের পিয়াসি। আমার বিশ্বাস মাহফুজামঙ্গলের পরে এই কবির হাতে একটি নিখুঁত সমাজমঙ্গল-কাব্য রচিত হবে।
- ড. আহমদ রফিক ভাষাসৈনিক ও রবীন্দ্র-গবেষক
বাঙালি জনগোষ্ঠি, যাদের একটা অংশ হিন্দু ধর্মাবলম্বী, একটি অংশ ইসলাম ধর্মাবলম্বী, তাদের যদি সত্যি সত্যি কোনো অসম্প্রদায়িক ভাষা তৈরি হতো, তাহলে যে ধরনের ভাষা আমরা প্রত্যাশা করতে পারতাম-সেটা সম্ভবত মজিদ মাহমুদের কবিতার মতো।
- মোহাম্মদ আজম সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
মজিদ মাহমুদ তাঁর কবিতার মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশের কবিতার অনিবার্য কণ্ঠস্বরে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছেন। তাঁকে বাদ দিয়ে নয় বাংলাদেশের কবিতার ইতিহাস।
- কবি মহীবুল আজীজ
মজিদ মাহমুদ সচেতনভাবে কাব্যচর্চা করেছেন। এই সচেতনতার মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব একটি কণ্ঠস্বর ও প্রকাশভঙ্গি নির্মাণ করতে পেরেছেন।
- মুহম্মদ নূরুল হুদা কবি
কবিতায় মজিদ মাহমুদ আমাদের অভিজ্ঞতার বৃত্তের বাইরে একটা অচেনা জগতকে যেন নতুন করে চিনিয়ে দিতে চাইছেন, উসকে দিচ্ছেন নতুনতর ভাবনা, যাপিত জীবন থেকে তুলে আনছেন এই মুহূর্তের সময়-সংকট, ঘৃণ্য রাজনীতি, সম্পর্কের বৈষম্য, অমানবিক যুদ্ধের বাতাবরণ, অসহায় প্রাণের আর্তি।
---সুব্রত গঙ্গোপাধ্যায়
বাংলাদেশের সাহিত্য চিন্তার রূপান্তর, নানা প্রবণতার উপলব্ধি ও মানবিক সম্ভাবনার বিকাশ মজিদের প্রবন্ধের সূত্রে আমরা অনুধাবন করতে পারি।
---দিলীপকুমার চট্টোপাধ্যায়
কবিতার সাথে কবি মজিদ মাহমুদের জীবনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কবিতা তাঁর কাছে নিত্য দিনের সঙ্গী। কবিতাহীন জীবন কবির কাছে অসম্পূর্ণ। কবিতায় তিনি পারিপাশির্^ক পরিবেশ, প্রকৃতি ও যাপিত জীবনকে ধারণ করতে চান।
-ড. জি এম মনিরুজ্জামান
মজিদ মাহমুদ সম্বন্ধে সত্যিই সেটি আসল কথা। সাহিত্যের, বিশ্ব ইতিহাসের দশ দিগন্তে ছড়ানো নানা জ্ঞান থেকে তিনি অগাধ তথ্যান্বেষী, মহা আহরণকারী- এটি তাঁর আন্তভুবন, প্রবন্ধ নির্মাণের বিশেষ বৈশিষ্ট্য।
--অপূর্ব কর
মজিদ মাহমুদের কবিতার বৈশিষ্ট্য বিবিধ। তিনি সহজ ও জটিলের মধ্যবর্তী অবস্থানে থেকে কবিতা রচনা করেন। শব্দচয়ন এবং বাক্যবিন্যাসে পারিপার্শি¦ক বিষয়ই প্রাধান্য পায়। সহজ করেই বলতে পারেন, ‘কী অদ্ভুত আজ তোমার আকৃতিÑরূপ ও সৌন্দর্য।’ আবার, ‘সৃষ্টির শুরুতে তুমি অখণ্ড একটি আপেলের মতো ছিলে’- এই বাক্যে আমাদের কপালে ভাঁজ পড়ে।
-কবি মাহমুদ কামাল
বহুকথিত রাবীন্দ্রিক পথিকচিত্ততা নয়, ঠিক জীবনানন্দীয় নাবিক বৃত্তও না, মুহূর্তে সারাজীবনকে দেখে ফেলার অসংখ্য অথচ অনির্দিষ্ট স্মৃতি-জাগানীয় এক গভীরতর আনন্দের বেদনা অথবা বেদনার আনন্দ অনুভব জেগে ওঠে, তার কবিতা পাঠে।
-খালেদ হামিদী কবি
মজিদ মাহমুদ এখনও যদি অনেকের দৃষ্টিসীমার নিচ দিয়ে অদেখা থেকে যান, বা সে অবস্থায় যে আছেন সেটা তার ফলভারে নুয়ে-থাকা ছাড়া আর কোনো ঘাটতি নয়।
বিলু কবীর গবেষক
মজিদ মাহমুদকে আপাত প্রেমের কবি মনে হলেও তিনি প্রবলভাবে রাজনীতি সচেতন ও সমকাল-সংলগ্ন। তাঁর কবিতা সম্পূর্ণ ভিন্নধারার কবিতা, যে কবিতা আমাদের সময়ে কেউ লেখে নাই। - কবি নাসির আহমেদ
মাহফুজা আসলে কে? শুধু নারী? শুধু প্রেমিকা? শুধু ঈশ^রÑ নাকি এসব ছাপিয়ে আরও আরও অনেক কিছু- তার পরিচয় বহুমাত্রিক মাহফুজার স্বরূপ অন্বেষণই যেন কবির অভীপ্সা। সেই খোঁজ জারি থাকে সমস্ত কাব্য জুড়ে। ছত্রে ছত্রে জাগে বিস্ময়।
-ড. সোমাভদ্র রায়
মজিদ মাহমুদ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থেই নিজের কণ্ঠস্বর প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন। ...তার কবিতা পড়তে গেলে মেরুদ- সোজা রাখতে হয়।
ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ
মজিদ মাহমুদ যে এখনো ভালো কবিতা লিখছেন এবং ক্রমাগত নিজেকে অতিক্রম করে যাচ্ছেন, এটি আমার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
ড. রফিকউল্লাহ খান
বারংবার পাঠের পর শিহরিত হতে হয়। পৃথিবী সৃষ্টির আদিলগ্ন থেকে যে মহাবিস্তারের সমানে দাঁড়িয়ে মজিদ এমন কথা উচ্চারণ করেছেন, তা তাঁকে সিদ্ধপুরুষ ভাবতেই সহায়ক হয়ে ওঠে।
---কবি রফিক উল ইসলাম
মজিদ তাঁর সাহিত্য প্রয়োগের ভাষা খুব উচ্চকিত বা ঝংকৃত করেননি কখনও অথচ সাবলীল শব্দ প্রয়োগ তাঁর রচনাকে গভীরতা দিয়েছেন। মানুষের ঘর-দুয়ারেই তাঁর বসত, সেই কারণেই যে কোন সময়ের প্রেক্ষাপট তাঁর কাছে সজীব।
---কবি দীপক লাহিড়ী
মজিদ মাহমুদ তাঁর প্রথম উপন্যাসে নারীর শারীরিক অক্ষমতাকে এক বিশাল ক্যানভাসে বহু বিচিত্র রঙের বর্ণালী চিত্রপটে অসাধারণ নৈপুণ্যে ভাস্বর করে তুলেছেন।
---জ্যোতির্ময় দাশ
‘মাহফুজামঙ্গল’ কাব্যগ্রন্থটি একটা আরশি। যার সামনে দাঁড়ালে একজন বা বহুজন বা একটা দেশ দেখতে পারে তার কর্ম ও কর্মহীনতার রূপ। এবং আশা কীভাবে বাস্তব হতে পারে, তার ভূমিস্তর।এ-পর্যন্ত পৃথিবীতে যত কবিতা রচিত হয়েছে, সবই মন্ত্র। মন্ত্র-উচ্চারণে সবই বলা যায়। ‘মাহফুজামঙ্গল’-এর মন্ত্রভাব আমাদের দিনযাপনের গ্রাহ্যে আসে।
-কবি জাহিদ হায়দার
তার কবি সংরাগ নিয়ে কিছু বলতে গেলে মাহফুজামঙ্গলের পাশে ‘বল উপাখ্যান’ ও ‘আপেল কাহিনি’র কথা সামন্য হলেও স্মরণ রাখতে হয়
ড. অনু হোসেন গবেষক
মজিদ তার প্রেমকে কবিতায় প্রকাশ করে গভীর এক স্থিরপ্রজ্ঞায়। প্রেম থেকে সমাজ, সংসার, দিনাতিপাত, মানুষের বয়ে আসা ইতিহাস, বহুবিধ লৌকিক ধারণা, গাছপালা-সমুদ্র-নদী-প্রকৃতি সবই অনুসঙ্গ হয়ে আসে একান্তই মজিদীয় উচ্চারণে। মানুষের সরাসরি সম্পর্কের ভেতর দিয়ে তিনি ঢুকতে থাকেন এমন এক সম্পর্ক কল্পচিত্রে, যার নজির বাংলা কবিতায় সহজে দৃষ্টিগোচর হয় না। -টোকন ঠাকুর কবি
মানবপ্রকৃতি ও বিশ্বপ্রকৃতির মধ্যে কবি মজিদ প্রত্যক্ষ করেন এক গভীর আত্মীয়তা। মানুষ ও প্রকৃতির মধ্যে যে রহস্য লুকিয়ে থাকে কবি তাকে আবিষ্কারে উদ্বুদ্ধ হন। কবির পর্যবেক্ষণে ধরা পড়ে অদৃশ্য অণুজীব থেকে মহাজাগতিক নক্ষত্ররাজি।
-কবি তাজিমুর রহমান
তাঁর কবিতার বিষয় বিচিত্র, ভাবনা বহুমুখী ও গভীর। ছন্দ নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা তাঁর কবিতাবলীতে বৈচিত্র্য নিয়েই উপস্থিত। কিন্তু ছন্দ পৃথক আর এত বৃহৎ বিষয় বলেই এখানে আলোচনা করলাম না। কিন্তু পয়ার, মহাপয়ার সনেট রচনাতেও তিনি বেশ দক্ষ দেখলাম।
---নবনীতা বসু হক
মজিদ মাহমুদের কবিতার বৈশিষ্ট্যগুলো আমাদের চলমান বাংলাকাব্যের ধারাবাহিকতা লগ্ন হলেও বৈচিত্র্যপূর্ণ। কত কিছু রয়েছে তার কবিতায়, রয়েছে নানারকম মনস্তাত্ত্বিক বিষয়াশয়।
---মতিন বৈরাগী
মজিদের কবিতার যাদু মাখানো দুনিয়া থেকে। ‘আপেল কাহিনি’ (২০০২) থেকে সাব এডিটরের যন্ত্রণা পেরিয়ে ‘বনসাই’ গাছের আপাত কুহক এড়িয়ে আপন ভূমির দিকে ফিরে গিয়ে মজিদ শোনাতে থাকেন।
---ইমানুল হক
‘আপেল কাহিনি’ মজিদ মাহমুদের আরেকটি অসাধারণ কাব্যগ্রন্থ। এখানেও সেই একই সুর, একই ভাবনা, তবে অন্যরূপে ও রূপান্তরে, মজিদ মাহমুদ একজন দক্ষ চিন্তাবিদ, তিনি অনু পরমাণু থেকে বিশ্বভাবনার স্বরূপ খুঁজে চলেছেন।
--কবি আবদুস শুকুর খান
কবি মজিদ মাহমুদের কবিতায় বিশেষ করে ‘আপেল কাহিনি’র কবিতার পরতে পরতে বঙ্গদেশের সমাজ অতিক্রম করে বহির্বিশ্বের পটভূমিতে রচিত হয়েছে বিশ্বায়নের অর্থনীতি। যেখানে নিজের দেশকে দেখতে পাওয়া যায় বৃহত্তর ভৌগোলিক পটভূমিতে।
--ড. সুরঞ্জন মিদ্দে
নিত্যদিনের পাঠশালায় তৈরি হয় মজিদ মাহমুদের কবিতার অভিজ্ঞান। আধুনিক মানুষের বোধ সেখানে অভীষ্ট লক্ষ্য হয়ে থাকে।
-ড. খোরশেদ আলম
কবি মজিদ মাহমুদের কবিতায় বারবার যেমন মিথ-এর সংমিশ্রণ ঘটেছে তেমনি সময়কে তুলে ধরবার সার্থক কারুকাজ। আমরা অনুপ্রাণিত হই; তার সঙ্গে নেমে পড়ি খেলার মাঠে।
---প্রাণজি বসাক
আমি দেখেছি একটি বিরল ক্ষমতা তাঁর মধ্যে রয়েছে। ঘোরতর শত্রুকেও তিনি কবিতার কল্যাণে আহবান জানান কাছে আসার। শরীর-মনের ক্লান্তি লুকিয়ে হাসিমুখে কবিদের মাঝে বসে কবিতা পাঠ শোনেন।
-আখতার জামান
প্রথম থেকেই পৃথক-চেতন কবি মজিদ মাহমুদ তাঁর কবিতায় পৃথকীকরণসূত্র সাজিয়েছেন বাক্যে ও কাব্যে, চিন্তায় ও কল্পনায়; তিনি প্রেয়সীকে দূরে সরে যেতে দেখেছেন অথবা নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন আরাধ্যের কাছ থেকে।
-ড. ফজলুল হক সৈকত
হুমায়ুন আজাদের পর একুশ শতকের দ্বিতীয় দশকে আরেকটি অভিঘাত তৈরি করতে চলেছেন গত শতাব্দীর আশির দশকের কবি ও বহুমুখী লেখক মজিদ মাহমুদ। মজিদ মাহমুদের কবিখ্যাতি প্রবল হলেও, মাত্র ২৩ বছর বয়সের মধ্যে ‘মাহফুজামঙ্গল’ নামে এক অসাধারণ কাব্যসিরিজ রচনা করলেও, তিনি একই সঙ্গে একজন চিন্তক-বিশ্লেষক-মননশীল মানুষ।
- কবি সৈকত হাবিব
একথা এখন জোর দিয়ে বলা যায়, আধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশ এবং আল মাহমুদ এর পরে বাংলা কবিতার যে উত্তরাধুনিক বাঁক বদল, তাঁর অন্যতম প্রধান স্থপতি কবি মজিদ মাহমুদ!
- কবি আবু রাইহান
কিন্তু মজিদ মাহমুদ তার এই গ্রন্থে সমকালীন পরিপ্রেক্ষিতের ভেতর চিরকালীন প্রেমচেতনাকে প্রয়োগ করে তার কবিসত্তার অস্তিত্বকে আত্মকথনের নিরীক্ষায় নান্দনিক তাৎপর্যে উপনীত করেছেন।
- কবি মাসুদুল হক
কবিতার ক্ষেত্রেও তিনি প্রচলিত কাঠামোর বিরুদ্ধে নীরব ও নান্দনিক বিদ্রোহ শুরু করেছেন প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘মাহফুজামঙ্গল’ থেকেই।
-সমীর আহমেদ
কবি মজিদ মাহমুদ আধুনিক মনন ও বিশ্বাসের এক জাগতিক কাব্যরসিক। সৃষ্টির প্রভেদ, লয় ও রহস্য উন্মোচনে তাঁর রয়েছে গভীর জিজ্ঞাসা। আবার স্্রষ্টার লীলাবাদী আচরণে তিনি বিস্মিত।
-ড. আব্দুল মজিদ
কবি মজিদ মাহমুদের বিশ্বাসভূমিতে এই ভাবনা প্রখর বলেই তাঁর লেখার মননশীলতার ভেতর প্রজ্ঞার পরিচয় মেলে।
---কামরুল ইসলাম
বিচিত্র অলংকার আর নানান উপমার ব্যবহার কবিতার শরীরকে নান্দনিক করে। অথচ এ দুটো বিষয়কে বেশ কম প্রয়োগ করেও ‘মাহফজামঙ্গল’-এর কবিতাগুলো চমৎকার। এ কৃতিত্ব কবি মজিদ মাহমুদের।
---চৈতন্য চন্দ্র দাস
কবি মজিদ মাহমুদের কবিতার অন্তর্ভাবনায় থাকে এক আলোকরেখা যা প্রকৃতই সত্য উন্মোচনের দিকে, অন্তঃশীল ভাবনার স্বাধীনতার দিকে। কবিতা পাঠকের কাছে তাঁর লেখা এতটাই বিশ্বাসযোগ্য এবং গ্রহণীয় হয়েছে তার প্রধান কারণ অনেকানেক টুকরো টুকরো বাস্তব ও স্বপ্নময়তা এবং প্রেম ও প্রতিবাদ প্রতি মুহূর্তেই হয়েছে স্বতন্ত্রতায় উজ্জল।
---গৌরশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
কবি মজিদ মাহমুদ অপরাজেয় মিথের গল্প বলেছেন ধাত্রী ক্লিনিকের জন্ম কবিতাগ্রন্থে। পাল্টে যাওয়া পৃথিবীর অনুকূলে দাঁড়িয়েই তার এই রচনা।
কবি আল মকসুদ
দর্শনগত, গঠনগত, প্রেম চেতনাগত, আধ্যাত্মিকতার দিক থেকে ‘মাহফুজামঙ্গল’ যে বিচিত্রভাবে আলোচিত হয়েছে তাতে কাব্যগ্রন্থটির একটি স্পষ্ট অবয়ব পাঠকের কাছে ফুটে উঠেছে।
---অদীপ ঘোষ
মজিদ মাহমুদের কাব্য-সম্ভার সমকালকে ভিত্তি করে সমৃদ্ধি লাভ করেছেন। সময়, সমাজ, সমাজস্থ মানুষের আচরিত কর্মকা-ের প্রেক্ষণবিন্দুকে ফোকাস করে তিনি কাব্য-পরিধিতে অন্তর্জাত উপলব্ধির সুর সংযোজন করেন।
---মোহাম্মদ আব্দুর রউফ
কবি মজিদ মাহমুদের কবিতা সংকলন ‘কবিতামালা’ পড়তে পড়তে যে কথাটা মনের মধ্যে উঠে আসে তা হল বিষয় বৈচিত্র্য। জীবনের চারণভূমিতে দাঁড়িয়ে এক একজন মানুষ এমন এক দৃষ্টি নিয়ে নিরীক্ষণ করেন যা জীবনবোধকে ‘বোধিদ্রুম’ করে তোলে।
--অমিত কাশ্যপ ও দুর্গাদাস মিদ্যা
কবি মজিদ মাহমুদের কবিতায় দেখা যায় প্রাচ্য এবং পাশ্চাত্য দর্শনের বহু অনুষঙ্গ। ভারতীয় পুরাণ, উপনিষদ, গীতা, গ্রিক পুরাণ এবং কোরাণ ও হাদিসের বহু অনুসৃতি তাঁর কবিতার শরীরে মিশে গেছে, কিন্তু সেই অনুসৃতিগুলো পংক্তির পর পংক্তি থেকে লাফিয়ে লাফিয়ে ঢুকে পড়েছে বর্তমান উত্তর-আধুনিক চেতনাবিশ্বের এক অশেষ সীমান্তে।
---অরুণ পাঠক
শুধু কবিতা নয়, বাংলাভাষা ও সাহিত্যে বিভিন্ন শাখায় তিনি অনায়াস বিচরণকরেছেন; সাহিত্যকে তিনি নিছক সাহিত্য হিসাবে দেখতে নারাজ এবং সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব বিচারের মাপকাঠিকেও মান্যতা দিয়েছে।
---অনন্ত দাশ
‘মাহফুজামঙ্গল’ মজিদ একটি সম্মোহিত অবস্থায় লিখেছেন।
---প্রবীর ভৌমিক
মজিদ মাহমুদ আদতে প্রেমের কবি। তাঁর প্রেমলোকে দৈহিক ভাবধারার ক্রমবর্ধমান। তাই আপাত প্রেমের অভিসারী পথিকদের কাছে ‘আপেল কাহিনি’র কোনও কোনও কবিতা বারবার পাঠযোগ্যতা আদায় করে নেবে -সেখানেই কবির সার্থকতা।
---দীপক হালদার
কবি মজিদ মাহমুদের সমগ্র কবিজীবনের মূলবাণী তাঁর অনুবিশ্বের কবিতা। কবির জীবনদর্শন তাঁর কাব্যচর্চার উপাদেয় ফসল। কবি এই জীবনদর্শনের ভেতর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে প্রবেশ করেছেন এক অনন্ত সত্তার মধ্যে, সেখানে কবি এক অদ্বিতীয়।
---অধীরকৃষ্ণ মণ্ডল
কবি মজিদ মাহমুদের কলমে নেচে উঠেছেন সরস্বতী। অনুসন্ধিৎসু বহু পাঠকের কৌতূহল মিটবে গ্রন্থটির সাথে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারলে।
---অমল কর
মজিদ মাহমুদ পুরুষতন্ত্রের সরল কিন্তু শক্তিশালী ফাঁদ থেকে যথাসম্ভব মুক্ত থাকেন। এই মুক্তির আরেক কারণ, মাহফুজামঙ্গলে ‘আমি’ প্রায়শই ‘আমরা’য় রূপান্তরিত হলেও ব্যক্তি হিসাবে কবি নিজের আলাদা অস্তিত্ব একবারেই ভুলে যান না।
---আবদুল্লাহ আল মোহন
এখানেই তাঁর স্বাতন্ত্র্য। তাঁর কবিতা পড়তে গেলে মননের পাশাপাশি মেধা ও যুক্তিবাদী মন, দুটিই সমানভাবে প্রয়োজন।
---সঞ্জীব মান্না
মজিদ মাহমুদ তাঁর অভিজ্ঞতা ভাবনার লিখনকর্মে ভাষাকে পাঠকের পক্ষে সমীচীন রূপায়ণ করেছেন
---সৌম্য ভট্রাচার্য
মাহফুজামঙ্গল কবিতার নামকরণ অবশ্যই সার্থক। বাঙালি মনে যেমন মনসামঙ্গল, অন্নদামঙ্গল, চন্ডীমঙ্গল তেমনই মাহফুজামঙ্গল আরেকটি সার্থক অঙ্কন।
---সৌমদীপ কুন্ডু
তিনি (মজিদ মাহমুদ) ট্র্যাডিশনাল মঙ্গলকাব্যের দেবীদের মতন ভয় দেখিয়ে ভক্তির উদ্রেক করে মানবজাতির পূজা পেতে আগ্রহী নন। বরং ভয়ে ভক্তির পূজায় তাঁর তীব্র অনীহা, আসক্তি তাঁর প্রেমে।
---সৌরভ চক্রবর্তী
মজিদ মাহমুদের কবিতাতেও এই অবচেতন মনের জটিল কুহেলিকা ও প্রতীকের ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। বর্তমান কালের অনন্য এই লেখকও কবির বিভিন্ন কবিতায় ফুটে উঠেছে পরাবাস্তবতা ।
---অনুসুয়া ঘোষ
বাংলাদেশ শিলালিপিতে এমনি একজন সাধকের নাম মজিদ মাহমুদ; যিনি নিজেই একাধারে কবি, লেখক, গবেষক, সংগঠক এবং শিক্ষাবিদ হিসাবে বহুমুখী কাজে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠ করে তুলেছেন স্বীয় সাধন প্রজ্ঞায়।
---নূরিতা নূসরাত খন্দকার
মজিদ মাহমুদের কবিতাগুলির মধ্যে ফুটে উঠেছে পৃথিবীর সকল মানুষের দুঃখময় নীরব কান্না, আর লুকিয়ে রয়েছে মরণশীল মানুষের অমরতার মন্ত্র।
গুঞ্জন চক্রবর্তী
এখানেই কবি মজিদ মাহমুদ-র সঙ্গে পথ হাঁটা শেষ করছি। এমন একটা জায়গায় এসে পড়লাম তারপর জানি না আর কতটা হাঁটতে পারতাম। এর পর অন্য পথে যাওয়া যায় কি!
---নরেশ মন্ডল
আমি বিস্ময়করভাবে লক্ষ্য করেছি, আধুনিক কবিদের আবিষ্ট করে রাখেন যে কবি জীবনানন্দ দাশ, তাকে আমি তার কবিতায় খুব একটা পাচ্ছি না; এই যে এড়িয়ে যাচ্ছেন তিনি, এড়িয়ে গেলেন জীবনানন্দ দাশকে-এটা তার ক্ষমতার পরিচায়ক।
ড. বেগম আকতার কামাল
মাহফুজামঙ্গলের কবিতা শেকড়-ঐতিহ্যলগ্ন হলেও এর দর্শনচেতনা ভিন্ন, দূরগামী। প্রকৃতির অমোঘ তাগিদে মজিদ মাহমুদের কবিতায় উঠে এসেছে নবচেতনার কাব্যপঙ্ক্তি, যা উচ্চারণের সঙ্গে মন্ত্রের শক্তিরূপে প্রকৃতিকে খ-িত করে সামনে এসে দাঁড়ায় এক অরাধ্য শক্তি।
বিমল গুহ কবি
মজিদ মাহমুদের কাব্যভাষা বাংলা কবিতার রবীন্দ্রনাথ কথিত গড়পেটা কাব্যভাষা, রাহমানের মৌখিক ঢং এবং নিজস্ব ভঙ্গির দারুণ এক রসায়ন।
কুদরত-ই-হুদা গবেষক
মজিদ মাহমুদ ক্লাসিক কাব্যধর্মে বিশ্বাসী। ক্লাসিক কাব্যে যেমন মাইকেলের ‘মেঘনাদবধ’ অমিত্রাক্ষর ছন্দে রচিত। মজিদ ছন্দ আঙ্গিকের ক্ষেত্রে, মুক্তগদ্য ছন্দকে বেছে নিয়েছেন।...মাজিদ মাহমুদ হলো বাংলা কবিতার প্রেম পদাবলির নয়াসাধক।
-কবি জহির হাসান
অতি সাধারণ আর অসাধারণ সব গুপ্তগুহার বর্ণনা ছেড়ে মজিদ হঠাৎই বেরিয়ে আসেন আমাদের অতি পরিচিত মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনাতে।
-কবি শিবলী মোকতাদির কবি
মজিদ মাহমুদ নিজের কবিসত্তাকে প্রথমেই তুমুলভাবে উদযাপন করেছেন এই কাব্যগ্রন্থে। এতে তিনি নিজস্ব জীবনের বোধ ও বোধির আওতার ভেতরে যা কিছু পড়ে, তার সবকিছু ধারণ করতে চেয়েছেন।
-কবি কথাশিল্পী হামীম কামরুল হক
বাংলাদেশের মানুষের আটপৌরে মুখের ভাষাকে কবিতায় ব্যবহারের মধ্য দিয়ে মজিদ মাহমুদ দার্শনিক ঋদ্ধতাকে নতুন করে যাচাই করেছেন। ভাষার ব্যাবহার সরল কিন্তু ঋদ্ধ।
কবি কাজী নাসির মামুন
মজিদ মাহমুদের কবিতায় পৌরাণিক অনুসঙ্গে জীবনকে পাঠ করে তার মর্মমূলে আধুনিক জীবনযন্ত্রনাকে শিল্পিত করার প্রয়াস লক্ষ করার মতো
ড. তারেক রেজা
মজিদ মাহমুদের কবিতায় চিন্তার যে বহুমাত্রিকতা, তাতে আত্মানুসন্ধানই শুধু নয়, সঙ্গে জড়িয়ে থাকে পুরাণ ঐতিহ্য ও পৌরাণিকতারও সীমাহীন বিস্তার। শিল্পের সুষমায় তিনি চারপাশের আয়োজনকে ব্যঞ্জনাময় করে তোলেন, উপযোগী করে তোলেন বর্ণনার ভেতর দিয়ে।
-কবি মামুন রশীদ
সব মহৎ আবিষ্কারই মনে হয় অতর্কিতে হয়। তেমনি কবি মজিদ মাহমুদের আবিষ্কারও আমার কাছে অতর্কিতে... তার বই পড়ে আমি শিহরণ অনুভব করতে থাকি।
জাহেদ সরওয়ার কবি
আরেকটি ছোটকথা এক নিঃশ্বাসে বোধ করি, বলে ফেলা যায়-প্রেমের কবিতা শীর্ষক বিশেষীকৃত কোনো অভিধা যদি স্বীকার করে নিতে হয়, তবে তাতে সংযুক্ত মজিদীয় মাত্রাটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিশ্লেশিত হবার আবেদন রাখে।
-ফারহান ইশরাক কবি
মজিদ মাহমুদের কবিতা পড়তে গিয়ে মনে হয়েছে, তিনি সেই ধারার করি নন, যারা কেবল সতঃস্ফুর্ততায় বিশ্বাসী। বরং মজিদ মাহমুদ অনেক বেশি আইডিয়া নির্ভর-কবি।
-ফেরদৌস মাহমুদ কবি
সন্মোহিতের মতো আমি কবিতাগুলো পড়তে থাকি... পড়তে থাকি। পড়ি আর ভাবি, মজিদ মাহমুদের কবিতায় কি যেন আছে... কি যেন আছে। সেই কি যেনটা আমাকে ভাবায়, উপলব্ধির জগতকে প্রসারিত করে, শিল্পরস যোগায়।
-স্বকৃত নোমান কথাশিল্পী
মজিদ মাহমুদের কবিতার কাছে ফিরে আসা যাক। পারস্য কবি জালালুদ্দীন রুমি, ওমর খৈয়াম এবং মধ্যযুগের বাংলা মঙ্গলকাব্যের সংমিশ্রণে একটি অদ্ভুত কাব্যশৈলীকে আমরা কবি মজিদ মাহমুদের মানসপটে ভেসে উঠতে দেখি।
-কবি সেঁজুতি জাহান

সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান