মেহনাজ মুস্তারিনের একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা
মেহনাজ মুস্তারিনের একগুচ্ছ প্রেমের কবিতা
জল রঙের ঘর 

একটি শিলাবৃষ্টির রাত শেষে আরেকটি রাতের জন্য আমি ওৎ পেতে আছি 

এবার যদি বৃষ্টি হয় সাথে শিলা পড়ে আমরা দুজন বেরিয়ে পড়বো 
আমার নীল ফ্রকে তুমি একটা একটা করে শিলা বৃষ্টি কুড়িয়ে দেবে 
আর আমি বৃষ্টি শেষে মেঘের ফাঁক দিয়ে ঐ যে আকাশ 
ওখানে জল রঙের একটা ঘর আঁকবো সেটা হবে আমাদের ঘর 

যেখানে মেঘের উঠোনে লাগাবো সাদা গোলাপ 
যে সাদা রঙ দাবি করবে 
হিংসাহীন নির্ভেজাল এক সমাজ 
মেঘ ও জলের ফোঁটা থেকে বেরিয়ে এসে সূর্য বলবে --
তোমাদের ঘরের দেয়ালে যে ছবি ঝুলছে  --- সেটা কি তোমাদের ভালোবাসার ঘর..!
               

অনিঃশেষ গল্পের পাশে 

আমরা দুজন যেভাবে পাশে আছি 
যেন উড়ন্ত হাওয়া অথবা শীতল কোন সন্ধ্যা ক্রমাগত শীত শীত অনুভব 

সন্মুখে অথবা আড়ালে স্বচ্ছ কাঁচের ভেতরে দুটো তারা অন্ধকার সরিয়ে আলো খোঁজে 

আমরা দুজন যেভাবে পাশে আছি 
খানিক দূরে অস্পষ্ট কুয়াশায় দেখি একজন মানব অপরজন মানবী 

ওরা যোজন যোজন পথ হেঁটে এক অনিঃশেষ গল্পের পাশে দাঁড়ায়  

আমরা দুজন যেভাবে পাশে আছি 
যেন দূর বাংলোয় ভিড়েছে নির্জন নৌকা 
আর আমরা শাখা প্রশাখার অন্ধকার আড়াল করে 

ঠিক এভাবেই বারবার জন্মাবো এমনটাই ভেবেছি

         

ঘন বর্ষণ 

মেঘের সাথে মেঘের এই যে লুকোচুরি খেলা 

তার নিরব সাক্ষী একমাত্র লিচু গাছে ঝুলে থাকা 
লিচু 
বয়স বাড়বার আগে যে চুপটি করে হৃদয় খুলে 
একটা একটা করে বের করে বিভিন্ন পার্টস 

ঘেঁটেঘুটে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডর ইতিহাস বের করে তাও আবার ইতিহাস ডিপার্টমেন্টে দাঁড়িয়ে 

তবে কি সে জীব আর বিজ্ঞানের মাঝামাঝি মিথস্ক্রিয়ার 
মত দাঁড়িয়ে ছিলো 

অপেক্ষা করছিল পুঞ্জিভূত মেঘ কখন ঘন হয় 
আর ক্লাউড ব্যাংকের মত ঘনিষ্ট হয়ে ভারি বর্ষণ দিতে নেমে পড়ে পাঠ্যক্রম সাজাতে
           

নব প্লাবন 

ডানাওয়ালা জাদুকর তুমি 
ভালোবাসার মন্ত্র নিয়ে বারবার কড়া নাড়ো 
হৃদয়ের লাবণ্য তিথিতে


ডানাওয়ালা জাদুকর ডাক দিলেই ছুটে যাই
মোহন বাঁশির মৌন সরবরে 

ও গো ডানাওয়ালা জাদুকর দীর্ঘ পথ হেঁটে এসে 
তুমি বীজ পুঁতে দাও নিয়তির দীর্ঘশ্বাসে 
দোলনচাঁপা দুলে ওঠে দুলে ওঠে সুদূরের বাঁশি 

ডানাওয়ালা জাদুকর তুমি থেকে যাও
আজ তুমি থেকে যাও 
আজ উৎসব নব প্লাবনের
           

তুমি এবং আমি

প্রায়শই সবুজ পথকে বলি তুমি কি অন্যকোন
পথিকের মর্মে দোলা দাও
যেভাবে আমার আর তোমার মাঝে 'এবং' দাঁড়িয়ে থাকে

যখন হাঁটি সেও হাঁটতে হাঁটতে অনেকটা দূরে গিয়ে দাঁড়ায়
ধোয়াশা পথ তখন খুব অচেনা যেন কখনো এপথে হাঁটা হয়নি

যখন অভিমান করি সেও আঁধার ঘুটঘুটে ঝোপে প্রেত হয়ে ঝুলতে থাকে বাদুড়ের মত
যখন বলি দূর ছাই আর না এবার শেষ হোক তখন নিঃশব্দ ক্রমশ সবুজ ঘন হয়ে আসে
যখন বলি এবার তবে থেকে যাও তখন এতটাই নিবিড় যে 
আমি আর তুমির মাঝে ডিভাইনের মত দাঁড়িয়ে থাকে এবং

সাবস্ক্রাইব করুন! মেইল দ্বারা নিউজ আপডেট পান