জ্বালানি সংকট চরমে। বন্ধ হয়ে গেছে সব। শহরে বিদ্যুৎ নেই সপ্তাহজুড়ে । মুদি দোকানে মালামাল নেই। কোম্পানির সরবরাহ বন্ধ । ঘরে খাবার যা ছিল, তা- ও শেষ। শহরজুড়ে ভূতুড়ে পরিবেশ । মোমবাতির আলোও ক্রমশ নিভে আসছে । রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। কোথাও যাওয়ার উপায় নেই। এখানে পড়ে থাকলে নির্ঘাত না খেয়ে থাকতে হবে। এভাবে কতদিন বেঁচে থাকা যায়? গ্রামের বাড়িতে গেলে হয়তো কিছু পাওয়া যাবে । ভাবছে বশির । গ্রামে মাটির চুলা আছে। লাকড়ি আছে। জমিতে ফসল আছে । আরও কিছুদিন খেয়েপরে অন্তত বেঁচে থাকার আশা করা যায়।
কিন্তু গ্রামের বাড়ি যাওয়ার উপায় কী? ঢাকা থেকে দূরপাল্লার গাড়ি সব বন্ধ । গাড়িতেই যেখানে তিন ঘণ্টা লাগে । হেঁটে গেলে কত ঘণ্টা লাগতে পারে তা জানা নেই বশিরের। যত সময়ই লাগুক বাড়িতে যেতেই হবে। শহরে অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে চুরি-ডাকাতি বেড়ে গেছে । ভয় হচ্ছে খুব। স্ত্রীকে নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা তার ।
পরদিন সকালেই ফজর নামাজের পর হাঁটা শুরু করলো তারা । কিছুদূর যেতেই মনে হলো পেছন থেকে একটা মিছিল আসছে । শহরের অলিগলি থেকে বেরিয়ে আসছে মানুষ । বৃদ্ধের হাত ধরে, শিশুকে কোলে নিয়ে বেরিয়ে আসছে তারা । তারা ফিরছে শেকড়ের দিকে । শহরের মায়া ছেড়ে যেতেই হবে বাস্তবতায়। ফিরে যেতে হবে আদিম যুগে। ফিরে যেতে হবে প্রস্তর যুগে।
